• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ব্যবসায়ীদের দখলে
রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ব্যবসায়ীদের দখলে

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে ব্যবসায়ীদের আধিক্য। এবারের পাতানো নির্বাচনে ৩০০ আসনের ১৯৯ আসনে জয়লাভ করেছে ব্যবসায়ীরা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার ও বৃহৎ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আঁতাত গড়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের বাজারের নিয়ন্ত্রক শিল্পগোষ্ঠী, ব্যাংকিং, পোশাক ও বিদ্যুতের মত গুরুত্বপূর্ণ জনখাতের ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্র ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের চালকের আসনে বসেছে। ফলে জনগণের অর্থ তছরুপকারী, ঋণখেলাপীরা সহজেই ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে। বিজিএমইএ’র প্রাক্তন সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী এজন্যই সিন্ডিকেট খুঁজে পায়নি। সাবেক মন্ত্রী এমপিদের সকলেরই সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারও কমেনি। 

সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো রওনক জাহান বলেছেন, ‘রাজনীতি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে যোগসূত্র গড়ে উঠেছে, সেটার সুবিধা নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। ...ফলে এখন যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্যে সিন্ডিকেট করছেন, কিংবা ব্যাংকে অনিয়ম করছেন বা ব্যাংক দখল করছেন, তাদের ধরা যাচ্ছে না। তারা রাজনীতিতে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো সংস্কার করা যাচ্ছে না।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতিদের অনেকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগের জয় পেয়েছে হাসিনার উপদেষ্টা শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। 

রংপুর-৪ আসনে নৌকা প্রতীকে জয় পেয়েছে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম সেপাল গ্রুপ। ঢাকা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি। ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। তার প্রতিষ্ঠান দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক শিল্পগোষ্ঠী। শুধু তৈরি পোশাক খাতের অন্তত ১৫ জন ব্যবসায়ী এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে।  

বছর বছর গ্যাস-বিদ্যুৎ, চাল-ডাল-তেল, সবজির দাম বাড়িয়ে যেভাবে জনগণের ঘাড় মটকানো হচ্ছে, তার নেতৃত্ব দিচ্ছে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার। বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার গণবিরোধী নীতি গড়ে উঠেছে এবং একে নিরাপদ করতে ফ্যাসিবাদের আশ্রয় নিয়ে রাজনীতিতে ব্যবসায়ী বন্দোবস্ত আরও দৃঢ়তর করছে। শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণকে ফ্যাসিবাদী আতাঁতকে ভেঙে চুরমার করা ছাড়া বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ব্যবসায়ীদের দখলে

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে ব্যবসায়ীদের আধিক্য। এবারের পাতানো নির্বাচনে ৩০০ আসনের ১৯৯ আসনে জয়লাভ করেছে ব্যবসায়ীরা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার ও বৃহৎ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আঁতাত গড়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের বাজারের নিয়ন্ত্রক শিল্পগোষ্ঠী, ব্যাংকিং, পোশাক ও বিদ্যুতের মত গুরুত্বপূর্ণ জনখাতের ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্র ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের চালকের আসনে বসেছে। ফলে জনগণের অর্থ তছরুপকারী, ঋণখেলাপীরা সহজেই ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে। বিজিএমইএ’র প্রাক্তন সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী এজন্যই সিন্ডিকেট খুঁজে পায়নি। সাবেক মন্ত্রী এমপিদের সকলেরই সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারও কমেনি। 

সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো রওনক জাহান বলেছেন, ‘রাজনীতি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে যোগসূত্র গড়ে উঠেছে, সেটার সুবিধা নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। ...ফলে এখন যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্যে সিন্ডিকেট করছেন, কিংবা ব্যাংকে অনিয়ম করছেন বা ব্যাংক দখল করছেন, তাদের ধরা যাচ্ছে না। তারা রাজনীতিতে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো সংস্কার করা যাচ্ছে না।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতিদের অনেকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগের জয় পেয়েছে হাসিনার উপদেষ্টা শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। 

রংপুর-৪ আসনে নৌকা প্রতীকে জয় পেয়েছে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম সেপাল গ্রুপ। ঢাকা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি। ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। তার প্রতিষ্ঠান দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক শিল্পগোষ্ঠী। শুধু তৈরি পোশাক খাতের অন্তত ১৫ জন ব্যবসায়ী এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে।  

বছর বছর গ্যাস-বিদ্যুৎ, চাল-ডাল-তেল, সবজির দাম বাড়িয়ে যেভাবে জনগণের ঘাড় মটকানো হচ্ছে, তার নেতৃত্ব দিচ্ছে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার। বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার গণবিরোধী নীতি গড়ে উঠেছে এবং একে নিরাপদ করতে ফ্যাসিবাদের আশ্রয় নিয়ে রাজনীতিতে ব্যবসায়ী বন্দোবস্ত আরও দৃঢ়তর করছে। শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণকে ফ্যাসিবাদী আতাঁতকে ভেঙে চুরমার করা ছাড়া বিকল্প নেই।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র